গত সপ্তাহে দেশের শীর্ষস্থানীয় ইসলামি ব্যাংকগুলোর একটিতে হঠাৎ নগদ প্রবাহের ঘাটতি প্রকাশ পায়, যার ফলে গ্রাহকরা দীর্ঘ সময়ের জন্য নগদ উত্তোলন করতে পারছেন না। এই অপ্রত্যাশিত ঘটনার ফলে দেশের আর্থিক বাজারে অস্থিরতা বৃদ্ধি পায় এবং ইসলামি ব্যাংকিং সেক্টরের প্রতি আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, এই সংকটের প্রভাব শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শাখা সীমাবদ্ধ নয়, বরং সম্পূর্ণ ইসলামি আর্থিক পণ্যের চাহিদা ও বিনিয়োগের পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে। সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে তৎক্ষণাৎ হস্তক্ষেপের আহ্বান জানানো হয়।
ইসলামি ব্যাংকিং বাংলাদেশের আর্থিক ব্যবস্থায় ২০০৯ সাল থেকে দ্রুত বিকাশ লাভ করে, বর্তমানে মোট সম্পদে প্রায় দশ শতাংশেরও বেশি অংশ দখল করে। শারিয়া নীতিমালা অনুসারে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে সুদ নিষেধ, ঝুঁকি‑শেয়ারিং এবং নৈতিক বিনিয়োগের নীতি প্রয়োগ করা হয়। তবে গত কয়েক বছর ধরে তহবিলের গঠন, লিকুইডিটি ব্যবস্থাপনা এবং ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে কাঠামোগত দুর্বলতা দেখা দিয়েছে। তদুপরি, শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ ও শারিয়া কমিটির স্বাধীনতা নিয়ে কিছু প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে, যা সেক্টরের স্বচ্ছতা ও স্থায়িত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর মহোদয় উল্লেখ করেন, বর্তমান সংকটের মূল কারণ শারিয়া নীতিতে নয়, বরং লিকুইডিটি পরিকল্পনা ও তহবিলের অপ্রতুলতা। সংশ্লিষ্ট ইসলামি ব্যাংকের সিইও বলেন, অপ্রত্যাশিত বড় পরিমাণের ডিপোজিট প্রত্যাহার এবং রিয়েল এস্টেট প্রকল্পের দেরি এই সমস্যার প্রধান কারণ। গ্রাহক সমিতি ও ভোক্তা অধিকার সংস্থা তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে, তারা তৎক্ষণাৎ নগদ সরবরাহের ব্যবস্থা এবং স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশের দাবি জানায়। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেন, যদি দ্রুত সমাধান না করা হয় তবে সেক্টরের সামগ্রিক আস্থায় বড় ধাক্কা লাগতে পারে।
প্রতিক্রিয়াস্বরূপ বাংলাদেশ ব্যাংক ত্রৈমাসিক লিকুইডিটি রিজার্ভ বাড়িয়ে এবং জরুরি তহবিলের সরবরাহের নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি, ইসলামি ব্যাংকিং তত্ত্বাবধায়ক কমিটি গঠন করে তহবিল ব্যবস্থাপনা, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং শারিয়া কমিটির স্বতন্ত্রতা নিশ্চিত করার জন্য নতুন নির্দেশিকা প্রণয়ন করবে। সরকারও ইসলামি আর্থিক সেক্টরের জন্য বিশেষ আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, যাতে তহবিলের গঠন ও তহবিলের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা যায়। দীর্ঘমেয়াদে শারিয়া নীতি মেনে চলা সত্ত্বেও, লিকুইডিটি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা সেক্টরের টেকসই বিকাশের মূল চাবিকাঠি হবে বলে বিশেষজ্ঞরা একমত।