প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
আমার কথা
আমার কথা নেএকোনা সদর নেএকোনা
01714461869 | <br>
আন্তজাতিক

মোদির জন্মদিন উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গে ২০ দিনের নজিরবিহীন আয়োজন, সমালোচনা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য ২০২৪ সালের ২৭ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৭৫তম জন্মদিন ও ২৫ বছর দীর্ঘ শাসনকাল উদযাপনের লক্ষ্যে ২০ দিনের একটি ব্য
প্রতিবেদক: মো: মাহবুব আলম প্রকাশ: Sep 12, 2026 প্রিন্ট: 22 Oct 2026, 03:34 PM
মোদির জন্মদিন উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গে ২০ দিনের নজিরবিহীন আয়োজন, সমালোচনা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য ২০২৪ সালের ২৭ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৭৫তম জন্মদিন ও ২৫ বছর দীর্ঘ শাসনকাল উদযাপনের লক্ষ্যে ২০ দিনের একটি ব্যাপক কর্মসূচি চালু করেছে। এই কর্মসূচির মূল অংশ হিসেবে রাজ্যের সব সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়‑কলেজে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদেরকে ‘মোদি দিবস’ থিমের অধীনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ঐতিহাসিক প্রদর্শনী এবং সেবামূলক কার্যক্রমে অংশ নিতে বলা হয়েছে। ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষাবিদ, অভিভাবক ও নাগরিক সমাজের মধ্যে তীব্র সমালোচনা ছড়িয়ে পড়ে, কারণ বাধ্যতামূলক অংশগ্রহণকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মোদি সরকারের ২৫ বছর পূর্ণ হওয়া এবং প্রধানমন্ত্রীকে ৭৫ বছর বয়সে স্বাগত জানাতে এই ধরনের বৃহৎ উদযাপন পূর্বে ভারতের কিছু রাজ্যে দেখা গিয়েছে, তবে পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক অংশগ্রহণের ধারা প্রথমবারের মতো প্রয়োগ করা হয়েছে। রাজ্যের শাসক দল, তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গঠন করে, মোদির প্রতি আনুগত্য ও সমর্থন প্রদর্শনের জন্য এই উদ্যোগকে ‘জাতীয় ঐক্য ও উন্নয়নের প্রতীক’ বলে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে, পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, এই কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের নাগরিক দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে এবং দেশপ্রেমিক চেতনা বৃদ্ধি করতে সহায়ক হবে।

শিক্ষক সমিতি ও ছাত্র সংগঠনগুলো এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে একটি সমন্বিত প্রতিবাদ শিবিরের আহ্বান জানিয়েছে। তারা যুক্তি দিয়েছে যে, শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণের অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং শিক্ষার মূল লক্ষ্য থেকে মনোযোগ সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতা বলছেন, ‘শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলকভাবে রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করানো গণতান্ত্রিক নীতির বিরোধী।’ অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, ‘এই উদ্যোগে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নয়, বরং জাতীয় গর্বের অনুভূতি জাগ্রত করা।’ বাংলাদেশের মিডিয়া এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও শিক্ষার স্বাধীনতা বিষয়ক আলোচনার অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে।

প্রতিবাদে সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্মসূচি চালু রাখার সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং শিক্ষাবিদদের সঙ্গে পরামর্শের মাধ্যমে অংশগ্রহণের পদ্ধতি সমন্বয় করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাধ্যতামূলক অংশগ্রহণের শর্তে কিছু নমনীয়তা প্রদান করা হবে, যেমন অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে শাস্তি না দিয়ে বিকল্প কার্যক্রমের সুযোগ দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের জাতীয় উদযাপনকে শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাসেবী অংশগ্রহণের ভিত্তিতে পরিচালনা করা হবে বলে পরিকল্পনা করা হয়েছে। বাংলাদেশে এই ঘটনাটি প্রতিবেশী দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও শিক্ষানীতি নিয়ে বিশ্লেষণমূলক আলোচনা উস্কে দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর নজরদারির সম্ভাবনা বাড়িয়েছে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আমার কথা